মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

বিখ্যাত ব্যক্তি

 

জ্ঞানচন্দ্র মজুমদার

জ্ঞানচন্দ্র মজুমদার বারহাট্টা উপজেলার রায়পুর গ্রামে ১৮৮৯ সালে জন্মগ্রহন করেন। তিনি ছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম একজন ব্যক্তিত্ব ও অগ্নিযুগের বিপ্লবি। ঢাকা কলেজ পড়ারসময় থেকে ১৯০৬ সালে  অনুশীলন সমিতির প্রতিষ্ঠাতা পি. মিত্রের সংস্রবে আসেন এবং তিনিই প্রথম সদস্যরুপে বিধিবদ্ধ শপথ গ্রহন করেন। ১৯১০ সালে বি.এস.সি পাশ করে প্রেসিডেন্সি কলেজে এম.এস.সি পড়ার জন্য ভর্তি হোন, এমএসসি পড়ার সময় তিনি প্রফুল্লচন্দ্রের দৃষ্টি আকর্ষন করেন, পুলিশি তৎপরতার জন্য তার পড়া শেষে হবার আগেই ১৯১৬ সালে তিন ধারা আইনে আটক থাকেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষে ছাড়া পেয়ে ১৯১৯ সালে তিনি কংগ্রেস আন্দোলনে যোগদেন এবং ময়মনসিংহ কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯২৫-৩০ সালে তিনি বাংলার প্রধান নেতাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন। ১৯৩৮ সনে তিনি তদানীন্তন কংগ্রেস হাইকম্যান্ডের বিপক্ষে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর সঙ্গে মিলিত হয়ে তাঁর মনোনীত ব্যক্তি হিসেবে বঙ্গীয় ব্যবস্থাপক সভার সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। বহুবার তাঁকে কারাবরণ করতে হয়। দেশবিভাগের পর ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত তিনি পাকিস্তানে বাস করেন ও পাক-গণপরিষদের সদস্য ছিলেন।

৩ অক্টোবর, ১৯৭০ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।


কবি ও চিত্রশিল্পী নির্মলেন্দু গুণ।

পূর্ননাম নির্মলেন্দু প্রকাশ গুণ চৌধুরী। জন্ম জুন ২১, ১৯৪৫ ( আষাঢ় ৭, ১৩৫২ বঙ্গাব্দ) বারহাট্টা উপজেলার কাশবন গ্রামে। তিনি নির্মলেন্দু গুণ নামে বাংলাদেশে ব্যাপক পরিচিত এবং একজন কবি ও চিত্রশিল্পী।  ১৯৭০ সালে প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রেমাংশুর রক্ত চাই প্রকাশিত হবার পর জনপ্রিয়তা অর্জন করে। এ-গ্রন্থের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে লেখা হুলিয়া কবিতাটি ব্যাপক জরপ্রিয়তা অর্জন করে এবং পরবর্তীতে এর উপর ভিত্তি করে তানভীর মোকাম্মেল একটি পরীক্ষামূলক চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছিলেন এছাড়াও তাঁর স্বাধীনতা,এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো কবিতাটি বাংলাদেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠ্যপুস্তকে পাঠ্য। তিনি প্রধানত একজন আধুনিক কবি। শ্রেণীসংগ্রাম, স্বৈরাচার-বিরোধিতা, প্রেম ও নারী তার কবিতার মূল-বিষয় হিসেবে বার বার এসেছে। কবিতার পাশাপাশি ভ্রমণ কাহিনীও লিখেছেন। নিজের লেখা কবিতা এবং গদ্য সম্পর্কে তার নিজের বক্তব্য হলো - বহুল আবৃত্ত কবিতাসমূহের মধ্যে - হুলিয়া, অসমাপ্ত কবিতা, মানুষ (১৯৭০ প্রেমাংশুর রক্ত চাই), আফ্রিকার প্রেমের কবিতা (১৯৮৬ নিরঞ্জনের পৃথিবী) - ইত্যাদি অন্যতম।

প্রকাশিত গ্রন্থ

কাব্যগ্রন্থ : প্রেমাংশুর রক্ত চাই (১৯৭০), না প্রেমিক না বিপ্লবী (১৯৭২), কবিতা, অমিমাংসিত রমণী (১৯৭৩), দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী (১৯৭৪), চৈত্রের ভালোবাসা (১৯৭৫), ও বন্ধু আমার (১৯৭৫), আনন্দ কুসুম (১৯৭৬), বাংলার মাটি বাংলার জল (১৯৭৮), তার আগে চাই সমাজতন্ত্র (১৯৭৯), চাষাভুষার কাব্য (১৯৮১), অচল পদাবলী (১৯৮২), পৃথিবীজোড়া গান (১৯৮২), দূর হ দুঃশাসন (১৯৮৩), নির্বাচিতা (১৯৮৩), শান্তির ডিক্রি (১৯৮৪), ইসক্রা (১৯৮৪), প্রথম দিনের সূর্য (১৯৮৪), আবার একটা ফুঁ দিয়ে দাও (১৯৮৪), নেই কেন সেই পাখি (১৯৮৫), নিরঞ্জনের পৃথিবী (১৯৮৬), চিরকালের বাঁশি (১৯৮৬), দুঃখ করো না, বাঁচো (১৯৮৭), ১৯৮৭ (১৯৮৮), যখন আমি বুকের পাঁজর খুলে দাঁড়াই (১৯৮৯), ধাবমান হরিণের দ্যুতি (১৯৯২), কাব্যসমগ্র, ১ম খণ্ড (১৯৯২, সংকলন), কাব্যসমগ্র, ২য় খণ্ড (১৯৯৩, সংকলন), অনন্ত বরফবীথি (১৯৯৩), আনন্দউদ্যান (১৯৯৫), পঞ্চাশ সহস্র বর্ষ (১৯৯৫), প্রিয় নারী হারানো কবিতা (১৯৯৬), শিয়রে বাংলাদেশ, ইয়াহিয়াকাল (১৯৯৮), আমি সময়কে জন্মাতে দেখেছি (২০০০), বাৎস্যায়ন (২০০০)

গল্পগ্রন্থ : আপন দলের মানুষ

ছড়ার বই : সোনার কুঠার (১৯৮৭)

আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ: আমার ছেলেবেলা, আমার কণ্ঠস্বর, আত্মকথা ১৯৭১ (২০০৮)

অনুবাদ: রক্ত আর ফুলগুলি (১৯৮৩)

তিনি ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমী , ২০০১ সালে একুশে পদক এবং ২০১৬ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার অর্জন করেন।


প্রফেসর ড. এম ইন্নাস আলী

প্রফেসর ড. এম ইন্নাস আলী ১লা সেপ্টেম্বর, ১৯৬০ সালে বারহাট্টা উপজেলার বিক্রমশ্রী গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। তিনি একজন বাংলাদেশী পদার্থবিজ্ঞানী ও বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের প্রতিষ্ঠাতা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থ বিদ্যায় এমএসসি করেন ১৯৪০ সালে। এরপর তিনি ১৯৪৮ সালে নিউইর্য়ক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইলেক্ট্রনিক্স এমইই এবং লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৫৫ সালে নিউক্লিয়ার পদার্থবিদ্যায় পিএইচডি ডিগ্রী লাভ করেন।   বিজ্ঞান গবেষণায় বিজ্ঞানপ্রেমী ইন্নাস আলী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইলেক্ট্রনিক্স এবং নিউক্লিয়ার ওপর গবেষণাকর্মে নিজেকে আত্মনিয়োগ করেছিলেন। এছাড়া তিনি ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব কাল্টিভিশন ও সায়েন্স, কলকাতা, ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স ইন ব্যাঙ্গালোর, নিউইয়র্ক ইউনির্ভাসিটি, ইউনির্ভাসিটি কলেজ ইন লন্ডন এবং আমেরিকার ব্রুক হ্যাভেন ন্যাশনাল ল্যাবরেটরিতে গবেষনা করেছিলেন। তাঁর মূল পাঁচটি গ্রন্থের পাশাপাশি তিনি ১৫০টির বেশি গবেষনাপত্র প্রকাশ করে গেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগে সিনিয়র লেকচারার হিসেবে যোগ দেন। এই বিভাগে তিনি ১৯৪৮ থেকে ১৯৬৩ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। প্রফেসর ইন্নাস ১৯৬৩ থেকে ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত পাকিস্তান এটোমিক এনার্জি কমিশনের সদস্য ছিলেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ১৯৬৮ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত। মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার পর তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যাঞ্চেলর হিসেবে যোগদান করেন। এর পাশাপাশি তিনি ইউনির্ভাসিটি গ্রান্ড কমিশনের প্রতিষ্ঠা সদস্য, বাংলাদেশ এটোমিক এনার্জি কমিশন, রাষ্ট্রপতির বিজ্ঞান উপদেষ্টা এবং পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি ১৯৭৯ থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত জেদ্দায় কিং আব্দুল আজিজ ইউনিভার্সিটিতে প্রফেসর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

তিনি ৪ মে ২০১০ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

সম্মাননা:
সিতারা-ই-কায়েদ-এ-আজম, ১৯৬৯
দায়েমি কমপ্লেক্স শান্তি অ্যাওয়ার্ড, ১৯৮৬
স্বাধীনতা পদক, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, ১৯৯১
আজীবন সম্মাননা, বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমী, ২০০৭
সম্মানসূচক ফেলোশিপ, বাংলা একাডেমী, ২০০৭

 

 

ছবি


সংযুক্তি


সংযুক্তি (একাধিক)